২০০১-২০০৬ সালে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের Corruption Perceptions Index (CPI) অনুযায়ী বাংলাদেশ পর পর ৫ বার সবচেয়ে নিচে অবস্থান করে। এর প্রেক্ষিতে একটি দাবী প্রচলিত রয়েছে যে একমাত্র বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালীন ঘটা দুর্নীতির কারণেই বাংলাদেশ বিশ্বের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ বা “দুর্নীতির চ্যাম্পিয়ন” হয়েছিল।
এই দাবীটি বাস্তবিক অবস্থার অতিরিক্ত সরলীকরণ এবং রাজনৈতিক স্বার্থে বিভ্রান্তিকরভাবে উপস্থাপন করা হয়ে এসেছে।
প্রেক্ষাপট কী বলে?
২০০১ সালের অক্টোবর মাসে খালেদা জিয়াকে প্রধানমন্ত্রী করে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকার বাংলাদেশের ষোড়শ মন্ত্রীসভা গঠিত করে। সে বছর জুন মাসে, অর্থাৎ এই মন্ত্রীসভা গঠনের প্রায় ৪ মাস পূর্বে প্রকাশিত CPI সূচকে বাংলাদেশকে প্রথমবার অন্তর্ভুক্ত করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল। সে বছরের স্কোরে বাংলাদেশ ছিল সবচেয়ে নিচে, অর্থাৎ জরিপভুক্ত দেশের মধ্যে সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত।
বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে খারাপ দুর্নীতির এই স্কোরটি ২০০১ সালে প্রকাশিত হলেও এটি প্রকৃতপক্ষে বিগত বছরগুলো পরিস্থিতির প্রতিফলন, যখন ক্ষমতায় ছিল আওয়ামী লীগ সরকার।
বিএনপি ক্ষমতায় আসার পরবর্তী বছরগুলোর CPI স্কোরগুলো পর্যবেক্ষণ করলে প্রাথমিক অবস্থা থেকে বাংলাদেশের CPI স্কোর বছর ক্রমে সামান্য উন্নতি লক্ষ্য করা যায়।
নিচে বিভিন্ন সরকারের সময়কার CPI ডেটা তুলনা করে দেখানো হয়েছে এবং বর্তমান অবস্থাও তুলে ধরা হয়েছে।
আওয়ামী লীগ সরকারের সময় (২০০১–এর আগে)
বাংলাদেশ প্রথমবার ২০০১ সালে CPI সূচকে অন্তর্ভুক্ত হয়। সে বছর ১০-এর মধ্যে ০.৪ স্কোর নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থা ছিল ৯১ তম, অর্থাৎ জরিপভুক্ত মোট ৯১টি দেশের মধ্যে সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত। আওয়ামী লীগ সরকার সে বছর ১৫ জুলাই ক্ষমতা ছাড়ে এবং রিপোর্টটি প্রকাশিত হয় ২৬ জুন। অর্থাৎ, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকা অবস্থায়।
অর্থাৎ, বাংলাদেশের “দুর্নীতির চ্যাম্পিয়ন” তকমাটি এসেছে ১৯৯৬–২০০১ সালের আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ পর্যায়ের বাস্তবতা থেকে, বিএনপি আমল থেকে নয়। Transparency International Bangladesh (TIB) বিষয়টি স্পষ্ট করে বলেছে যে, প্রথম বছরের ডেটা যেহেতু আগের সরকারের সময়কার, তাই পরপর পাঁচ বছরের দায় শুধুমাত্র বিএনপি–র ওপর চাপানো ভুল।
২০০৮ সালে সরকার গঠনের পর আওয়ামী লীগ ও দলটির সমর্থকগোষ্ঠী “বিএনপির আমলে বাংলাদেশ ৫ বার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়” কথাটির ব্যাপক প্রচলন করে এবং নিজেদের ভূমিকা সম্পূর্ণ ঢেকে ফেলতে সক্ষম হয়।
“ক্ষমতায় থেকে বিএনপি শুধু লুটপাট করে খেয়ে গেছে। পাঁচটা বছর বিএনপির লুটপাট আর দুই বছর তত্ত্বাবধায়কের আতংক। পাঁচ বছর তারা শুধু দুর্নীতিতেই চ্যাম্পিয়ন ছিল।” — শেখ হাসিনা, মার্চ ২১ ২০১২
“খালেদা জিয়ার আমলে বাংলাদেশ ৫ বার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়। খালেদা জিয়া একজন প্রধানমন্ত্রী হয়েও কালো টাকা সাদা করেছে। এ টাকা কোথা থেকে এলো।” — শেখ হাসিনা, ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০১৮
“স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, “অতীতে বিএনপি সরকারের সময় বাংলাদেশ টানা পাঁচবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। সঠিক নেতৃত্বের অভাবে বিএনপি সরকারের সময় দেশে লুটপাট হয়েছিল।” — জাহিদ মালেক, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী, ডিসেম্বর ১৫, ২০২০
হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বিএনপির দুর্নীতির কারণে তাদের আমলে দেশ পরপর পাঁচবার দুর্নীতিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। যাদের আমলে দেশ পরপর চারবার একক ও একবার যুগ্মভাবে দুর্নীতিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়, তাদের মুখে দুর্নীতি নিয়ে মন্তব্য হাস্যকর।’ — হাছান মাহমুদ, তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক, জানুয়ারি ৩১, ২০২১
“দুর্নীতিতে যারা বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল, তাদের পক্ষ থেকে আলাল ও দুলালরা দুদকে গেছেন। আমি মনে করি দুদক তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে হাওয়া ভবনের মাধ্যমে যে লুটপাটটা হয়েছে এবং তাদের কারণে কীভাবে দেশ পরপর পাঁচবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে, সেই তথ্যটা পাবে।” — হাছান মাহমুদ, তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক, এপ্রিল ১১, ২০২২
“বিএনপি-জামায়াত দেশকে দুর্নীতির অভয়ারণ্য বানিয়েছিল। তাদের (বিএনপির) আমলে দেশ ৫ বার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।” — হাছান মাহমুদ, তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক, ১৭ জুলাই ২০২২
“আজকে সংবাদ সম্মেলন করে সরকারের বিরুদ্ধে একগাধা দুর্নীতির অভিযোগ উপস্থাপন করেছেন বিএনপির মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেব। আমার প্রশ্ন হচ্ছে যারা নিজেদের দুর্নীতির কারণে পর পর বাংলাদেশকে পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন করেছিল তারা কারা? তারা হচ্ছে বিএনপি।” — হাছান মাহমুদ, তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩
বিএনপি সরকার (২০০১–২০০৬)
২০০১ সালের অক্টোবরে BNP–নেতৃত্বাধীন জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রতিবছর CPI স্কোর ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে, যা দুর্নীতির ধারণাগত উন্নতির ইঙ্গিত দেয়। ২০০২ সালে স্কোর বেড়ে হয় ১.২ (তবুও নিচের দিকেই ছিল)। এরপর ধারাবাহিকভাবে স্কোর বাড়তে থাকে।
| CPI সাল | স্কোর (১০ এর মধ্যে) | অবস্থান | মোট দেশ |
|---|---|---|---|
| ২০০২ | ১.২ | ১০২ (শেষ) | ১০২ |
| ২০০৩ | ১.৩ | ১৩৩ (শেষ) | ১৩৩ |
| ২০০৪ | ১.৫ | ১৪৫ (শেষ) | ১৪৬ |
| ২০০৫ | ১.৭ | ১৫৮ (শেষ) | ১৫৯ |
| ২০০৬ | ২.০ | ১৫৬ (৩য় সর্বনিম্ন) | ১৬৩ |
যদিও ২০০৫ পর্যন্ত বাংলাদেশ র্যাংকিংয়ে নিচের দিকেই ছিল, তবে ২০০২ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে CPI স্কোর ১.২ থেকে বেড়ে ২.০ হয়—যা আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ স্কোর ০.৪–এর তুলনায় চার থেকে পাঁচ গুণ উন্নতি।
Transparency International এই অগ্রগতিকে বর্ণনা করেছে “modest but measurable” (সামান্য কিন্তু পরিমাপযোগ্য উন্নতি) হিসেবে, যা নির্দেশ করে যে BNP আমলে শাসনব্যবস্থা তুলনামূলকভাবে উন্নত হচ্ছে বলে ধারণা তৈরি হয়েছিল। উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০০৪ সালে বিএনপি সরকার একটি স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন (Anti-Corruption Commission) গঠন করে, যা ছিল একটি প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার।
সার্বিকভাবে, এই তথ্যগুলো স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে বিএনপি সরকার বাংলাদেশকে দুর্নীতির তালিকায় নিচে নামায়নি; বরং তারা আগের সরকারের কাছ থেকে সবচেয়ে খারাপ অবস্থানটি উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছিল এবং বিএনপি আমলে CPI স্কোর উন্নত হয়েছিল।
২০০৬–এর পর: পরবর্তী সরকার ও CPI প্রবণতা
২০০৬ সালের শেষদিকে একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতা নেয় এবং ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় ফেরে। বিএনপি পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের CPI প্রথমে কিছুটা উন্নত হয়, এরপর স্থবির হয়ে পড়ে এবং পরে আবার অবনতি ঘটে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার (২০০৭–২০০৮): দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের ফলে CPI স্কোর বেড়ে ২.১ হয়। এটি ছিল ১০–এর স্কেলে বাংলাদেশের তখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ স্কোর। এরপর বাংলাদেশ আর এককভাবে সর্বশেষ অবস্থানে ছিল না; চাদ ও মিয়ানমারের মতো দেশগুলো একই বা আরও খারাপ অবস্থানে ছিল।
আওয়ামী লীগ সরকার (২০০৯–২০২৪): ২০১১ সালে স্কোর বেড়ে হয় ২.৭/১০, যদিও বিশ্বব্যাপী এখনও নিচের ১৫ শতাংশে। Transparency International জানায়, এই সময়ে “কোনো বড় প্রাতিষ্ঠানিক অগ্রগতি” হয়নি এবং আগের উন্নতি থমকে যাচ্ছে।
| CPI সাল | স্কোর | অবস্থান | মোট দেশ |
|---|---|---|---|
| ২০০৯ | ২.৪ (১০ এর মধ্যে) | ১৩৯ | ১৮০ |
| ২০১০ | ২.৪ (১০ এর মধ্যে) | ১৪৩ | ১৭৮ |
| ২০১১ | ২.৭ (১০ এর মধ্যে) | ১২০ | ১৮৩ |
| ২০১২ | ২৬ | ১৪৪ | ১৭৬ |
| ২০১৩ | ২৭ | ১৩৬ | ১৭৭ |
| ২০১৪ | ২৫ | ১৪৫ | ১৭৫ |
| ২০১৫ | ২৫ | ১৩৯ | ১৬৮ |
| ২০১৬ | ২৬ | ১৪৫ | ১৭৬ |
| ২০১৭ | ২৮ | ১৪৩ | ১৮০ |
| ২০১৮ | ২৬ | ১৪৯ | ১৮০ |
| ২০১৯ | ২৬ | ১৪৬ | ১৮০ |
| ২০২০ | ২৬ | ১৪৬ | ১৮০ |
| ২০২১ | ২৬ | ১৪৭ | ১৮০ |
| ২০২২ | ২৫ | ১৪৭ | ১৮০ |
| ২০২৩ | ২৪ | ১৪৯ | ১৮০ |
| ২০২৪ | ২৩ | ১৫১ | ১৮০ |
২০১২ সালে CPI স্কেল বদলে ০–১০০ করা হয়, যেখানে বাংলাদেশের স্কোর দাঁড়ায় ২৬/১০০, প্রায় তার পূর্বের অবস্থানের সমমান।
২০১২ সাল থেকে বাংলাদেশে দুর্নীতি ধারণা সূচক (CPI)–এর স্কোর প্রায় এক দশক ধরে ১০০–এর মধ্যে ২০–এর ঘরে স্থির ছিল, যা স্থায়ী ও উচ্চমাত্রার দুর্নীতির প্রতিফলন। দুর্নীতির বিরুদ্ধে “শূন্য সহনশীলতা” নীতির ঘোষণা বারবার দেওয়া হলেও বাস্তবে দীর্ঘমেয়াদি কোনো উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা যায়নি। বরং ২০২০–এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে এসে এই প্রবণতা নেতিবাচক দিকে মোড় নেয়—যা ইঙ্গিত করে যে সংস্কার কার্যক্রম থেমে গেছে, প্রাতিষ্ঠানিক নজরদারি ও প্রয়োগক্ষমতা দুর্বল হয়েছে এবং দুর্নীতি দমন ব্যবস্থার ওপর জনআস্থা কমে গেছে।
২০২৪ সালের সূচকে বাংলাদেশের দুর্নীতি ধারণা সূচক (CPI)–এর স্কোর নেমে আসে ২৩–এ, যা গত ১৩ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। এতে বাংলাদেশ ১৮০টি দেশের মধ্যে ১৫১তম অবস্থানে রয়েছে—অর্থাৎ বৈশ্বিকভাবে নিচের ১৫ শতাংশের মধ্যে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এই ফলাফলকে “চরমভাবে হতাশাজনক” বলে অভিহিত করেছে এবং এর জন্য গভীরভাবে প্রোথিত দুর্নীতি ও নজরদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়াকে দায়ী করেছে।
কেন বাংলাদেশ আর “চ্যাম্পিয়ন” নয়?
আজ বাংলাদেশকে আর “বিশ্বের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ” বলা হয় না, কিন্তু তা কোনো বড় সাফল্যের কারণে নয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ২৩–২৬/১০০ স্কোর এখনও অত্যন্ত দুর্বল এবং ব্যাপক দুর্নীতির ইঙ্গিত দেয়।
বাংলাদেশ আর “দুর্নীতির চ্যাম্পিয়ন” হিসেবে পরিচিত না থাকার প্রধান কারণ হলো—সূচকে অন্তর্ভুক্ত দেশের সংখ্যা বেড়েছে এবং অনেক দেশ বাংলাদেশের চেয়েও খারাপ অবস্থায় চলে গেছে। ২০০৫ সালের পর সোমালিয়া, দক্ষিণ সুদান, সিরিয়ার মতো আরও ভঙ্গুর রাষ্ট্র সূচকে অন্তর্ভুক্ত হয়, যাদের স্কোর ছিল আরও কম। এর ফলে দেশের ভেতরে তেমন উন্নতি না হলেও র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশ কিছুটা ওপরে উঠে আসে।
উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, সর্বশেষ CPI–তে বাংলাদেশের স্কোর কমলেও অন্যান্য কয়েকটি দেশে দুর্নীতির অবস্থা আরও খারাপ হওয়ায় বাংলাদেশ চার ধাপ ওপরে উঠে যায়। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) উল্লেখ করেছে যে ২০০৫ সালের পর বাংলাদেশ “সর্বনিম্ন স্কোর ও র্যাংকিংয়ের সীমা থেকে বেরিয়ে এসেছে”, তবে একই সঙ্গে তারা সতর্ক করে বলেছে—“আত্মতুষ্টির কোনো সুযোগ নেই”।
সারসংক্ষেপে বলা যায়, ২০০১–২০০৫ সময়ে বাংলাদেশের “সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত” তকমাটি মূলত আগের সরকারের শাসনব্যবস্থার উত্তরাধিকার এবং সে সময়ের সীমিত জরিপ কাভারেজের ফল। ২০০১–২০০৬ মেয়াদে বিএনপি সরকারের সময়ে CPI স্কোর প্রতিবছর সামান্য হলেও উন্নত হয়েছিল, যা এই ধারণাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে যে বিএনপি বাংলাদেশকে দুর্নীতির চ্যাম্পিয়ন বানিয়েছিল।
দুর্ভাগ্যজনকভাবে, পরবর্তী কোনো সরকারই উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি আনতে পারেনি। ফলে বাংলাদেশ এখনও CPI–এর নিচের দিকেই অবস্থান করছে—যা স্পষ্ট করে যে দুর্নীতি কোনো একক সরকারের সমস্যা নয়, বরং একটি কাঠামোগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সংকট।
অনলাইনে চলমান বিভিন্ন প্রাসঙ্গিক বিষয় নিয়ে আপনার গঠনমূলক পর্যবেক্ষন কিংবা অভিমত আমাদের কাছে পাঠাতে পারেন। আমরা তা আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করবো। আমাদের পাঠাতে হবে [email protected]এই ঠিকানায়। অথবা যাচাই-এর ফেসবুক পেইজ-এ সরাসরি পাঠিয়ে দিতে পারেন।