Refresh

This website jachai.org/articles/post-1537 is currently offline. Cloudflare\'s Always Online™ shows a snapshot of this web page from the Internet Archive\'s Wayback Machine. To check for the live version, click Refresh.

অনুসন্ধান

প্রথম প্রকাশ:

যারা মায়ানমারের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ডাক দিচ্ছে তারা কিন্তু কখনও মায়ানমারে যুদ্ধে যাবে না। কিছু মানুষ এই সুযোগে জিহাদ ও কিতাল সম্পর্কে ভুল বুঝাচ্ছে। রোহিঙ্গা ইস্যুতে গরম হয়ে অন্যরা ভুল ভাল বুঝ পাচ্ছে। কবে দেখবেন আপনার বাজারের মধ্যে বোমা ফাটাবে। আর বলবে বাজার কমিটির লোকজন নামাজ পড়ে না। তারা কাফের। তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা ফরজ। কবে শুনবেন বাড়ির পাশের প্রতিবেশীকে মেরে ফেলবে। বলবে ফজরের নামাজে তারা মসজিদে আসেনি তাই তারা কাফের হয়েগেছে। তাদের হত্যা করা জায়েজ হয়েগেছে!

এদের ব্যাপারে সতর্ক না হলে এসব সর্বনাশা কাজ হবেই। আফগানিস্তান, ইরাক, সিরিয়ায় যুদ্ধে যাওয়ার নাম করে যে প্রচারণা হয়েছিল তাতে আর কয়জনইবা যুদ্ধে গেছিল? সর্বনাশটা হয়েছিল সেই ভুল ভাল জিহাদের বীজ এদের মনে গেঁথে গেছিল। যার পরিণামে আমাদের দেশে জঙ্গিপানা তৈরি হয়েছে। একজন জঙ্গি কিভাবে জঙ্গি হল তার অনেকগুলি ফ্যাক্টর রয়েছে। তবে এই ধরণের প্রচারণা একটা আত্মঘাতী ফ্যাক্টর বলে মনে করি।

ইসলামে কিতাল বা যুদ্ধ ফরজ হওয়ার কতগুলি শর্ত আছে―

  • ১. যুদ্ধের ডাক দিবে রাষ্ট্রের সরকার প্রধান।
  • ২. যুদ্ধ করবে সেনাবাহিনী। জনগণ সাপোর্ট দিবে। সরকার অস্ত্র না দিলে নিজ হাতে অস্ত্র তুলে নেয়া যাবে না।
  • ৩. যুদ্ধাবস্থায় নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও আত্মসমর্পণকারীদের হত্যা করা যাবে না।
  • ৪. মেয়েদের সাথে কোন অসামাজিক আচরণ করা যাবে না।
  • ৫. যখনই প্রতিপক্ষ সংযত হবে তখনই যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে।
  • ৬. কৌশলের অংশ হিসেবে আক্রমণ চালানো যাবে কিন্তু আক্রোশের বশবর্তী হয়ে ধ্বংসযজ্ঞ ও হত্যাকাণ্ড চালানো যাবে না।
  • ৭. নৃশংসতা ও বীভৎসতা এড়িয়ে চলতে হবে। নিজ বাহিনীর যারা এসবের সাথে জড়িত থাকবে তাদের গ্রেফতার করে বিচারের সম্মুখীন করতে হবে।
  • ৮. মৃতদেহ বিকৃত করা বা অবমাননা করা যাবে না।

অথচ এখানে ওখানে বোমা ফাটানোকে অনেকে জিহাদ বা কিতাল মনে করে। এইসব গোলাগুলি ও বোমাবাজি করে তারা নিরীহ মানুষ হত্যা করছে। কোন সিভিলিয়ান যারা যুদ্ধে জড়িত নয় তাদের হত্যা করা জঘন্য পাপ কাজ। জাহান্নাম এসব পাপিষ্ঠদের জন্য অবধারিত।

বিকৃত, বীভৎস ও নৃশংস দৃশ্য প্রচার করা ইসলাম অনুমতি দেয় না। অথচ অনেকের ফেসবুকে এসবের ভিডিও ও ছবি পোস্ট করা হচ্ছে। আল্লাহর রসূল সা. যেসব সাহাবীদের লাশ কাফেররা যুদ্ধের ময়দানে বিকৃত করেছিল তাদের নিকট আত্মীয়দেরও দেখতে দেননি।

রোহিঙ্গাদের জন্য মায়ানমারের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করা অনুচিত। রোহিঙ্গাদের কিছু মানুষ এ কাজে লিপ্ত রয়েছে। তারা মাঝে মাঝে গেরিলা আক্রমণ চালিয়ে মায়ানমারের পুলিশ ও সেনাবাহিনী হত্যা করছে। এরপর সেনাবাহিনী এরকম নৃশংস হত্যাকাণ্ডে মেতে উঠছে। ঐ কয়জন পুলিশ মেরে আসল কি লাভ হয়? যুদ্ধ কৌশলের বাইরে শুধু শুধু হত্যা করা জায়েজ নয়। কেননা ইসলামে যুদ্ধ কৌশলের গুরুত্ব অনেক বেশি। খামখা ফাঁকায় পেয়ে মেরে আসা কোন যুদ্ধ কৌশল হতে পারে না।

অত্যাচারের প্রতিবাদ করা আর প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে ধ্বংসযজ্ঞ চালানো এক জিনিস নয়। পরের কাজটি কখনো বৈধ হতে পারে না। প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রশক্তির বিরুদ্ধে (যদিও তারা অন্যায় করছে) চোরাগোপ্তা হামলা চালালে জনগণই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

তবে মজলুম মানুষের কষ্টে তাদের পাশে দাঁড়ানো উচিত। মানবিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখা দরকার।


অনলাইনে চলমান বিভিন্ন প্রাসঙ্গিক বিষয় নিয়ে আপনার গঠনমূলক পর্যবেক্ষন কিংবা অভিমত আমাদের কাছে পাঠাতে পারেন। আমরা তা আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করবো। আমাদের পাঠাতে হবে [email protected]এই ঠিকানায়। অথবা যাচাই-এর ফেসবুক পেইজ-এ সরাসরি পাঠিয়ে দিতে পারেন।
সর্বশেষ হালনাগাদ:

পাদটীকা

মন্তব্য